প্রকাশিত:
গতকাল

ওয়াশিংটন পোস্টের ইতিহাসে এক অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে ২০২৬ সালের এই গণছাঁটাই। জেফ বেজোসের মালিকানাধীন এই বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যমটি থেকে এক ধাক্কায় এক-তৃতীয়াংশ সাংবাদিককে বিদায় করা হয়েছে।
বিশ্ব সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ (The Washington Post) বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন বা ‘রিস্কি রিসেট’-এর অংশ হিসেবে একযোগে ৩০০ জন সাংবাদিক ও নিউজরুম কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন পোস্টের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জগতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
অনলাইনে একটি লাভজনক সংবাদপত্র গড়ে তোলার এবং চালানোর পথ খুঁজে পাননি বলেই এই ছাঁটাই করেছেন বেজোস। তার মালিকানার প্রথম আট বছরে পত্রিকাটি সম্প্রসারিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংস্থা বেশ হোঁচট খেয়েছে। নতুন এই ছাঁটাইয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে গণমাধ্যমটির কয়েকটি বিট ও কার্যক্রম। সংকুচিত হবে বেশ কিছু সেক্টরও।
ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বদলে যাওয়া ডিজিটাল বাস্তবতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) এই যুগে টিকে থাকতে তাদের নিউজরুমকে নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ক্রমাগত লোকসান এবং পাঠক সংখ্যা হ্রাসের কারণেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন মালিকপক্ষ।
জেফ বেজোস ২০১৩ সালে পত্রিকাটি কেনার পর গত এক দশকে এটি ছিল সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা। বর্তমান ছাঁটাইয়ের ফলে পত্রিকাটির নিউজরুমের শক্তি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
দ্য পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারেরি জানান, বুধবার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে ফোন কলে তিনি জানিয়ে দেন—সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে অনেক অর্থ হারাচ্ছে এবং পাঠকদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। তিনি বলেন, সব বিভাগই কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হবে এবং ফলস্বরূপ পত্রিকাটি জাতীয় সংবাদ, রাজনীতি, ব্যবসা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক আরও বেশি মনোযোগ দেবে। আর অন্যান্য ক্ষেত্রের উপর কম দৃষ্টি নিবদ্ধ হবে।
বুধবার একটি সাক্ষাৎকারে, মারে স্বীকার করেন যে ভবিষ্যতে দ্য পোস্ট আবার তার নিউজরুম বৃদ্ধি করতে পারে।
মারে জানান, আন্তর্জাতিক কভারেজও কমে যাবে, তবে সাংবাদিকরা প্রায় একটি ডজন লোকেশনে থাকবেন। মধ্যপ্রাচ্য, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদক এবং সম্পাদক ছাঁটাই করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে মারে এই ছাঁটাইয়ের দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, এটি তার এবং তার টিমের পরিকল্পনার অংশ।
ছাঁটাই হওয়া সাংবাদিকদের তালিকায় লিনজি জনসনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নামও রয়েছে, যিনি যুদ্ধের ময়দান থেকে প্রতিবেদন পাঠিয়ে পুলিৎজার জয়ী টিমের অংশ ছিলেন। অনেক সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, জুম কলের মাধ্যমে বা ইমেইলে তাদের ছাঁটাইয়ের খবর জানানো হয়েছে, যা অত্যন্ত অবমাননাকর।
ওয়াশিংটন পোস্টের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে যখন এমন গণছাঁটাই হয়, তখন তা বিশ্বজুড়ে স্বাধীন ও গভীর সাংবাদিকতার (Deep Journalism) ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এআই-নির্ভর সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকতে গিয়ে সংবাদপত্রটি তার মূল মেধা ও অন্তর্দৃষ্টি হারাল।