প্রকাশিত:
গতকাল

বিশ্ব অর্থনীতির দুই প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এক দীর্ঘ এবং ‘ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপকে ট্রাম্প নিজেই ‘চমৎকার’ (Wonderful) হিসেবে অভিহিত করেছেন। কয়েক মাস ধরে চলা শুল্ক যুদ্ধ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এই ফোনালাপকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবারের (৪ ফেব্রুয়ারি) এ ফোনালাপে দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, তাইওয়ান, ইরান এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন:
"প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে আমার অত্যন্ত দীর্ঘ এবং চমৎকার একটি কথা হয়েছে। আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি একজন অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা যিনি তার দেশকে ভালোবাসেন এবং আমি আমার দেশকে ভালোবাসি। আমরা কি বড় কিছু করতে যাচ্ছি? হয়তো!"
ট্রাম্পের এই ইতিবাচক সুর গত নির্বাচনের পর থেকে তার কড়া চীন-বিরোধী অবস্থানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন, যা আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন জিনপিং। পুতিনের সঙ্গে ওই আলোচনায় শি বলেন, অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এই ফোনালাপের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব বাজারে তার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং ইনডেক্সে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, বড় কোনো অর্থনৈতিক সংঘাতের বদলে দুই দেশ হয়তো সমঝোতার পথে হাঁটবে।
আগামী এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যু—বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও—শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা ট্রাম্প বারবার তুলে ধরেছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বিবৃতিতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়, দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে তাদের সরাসরি বৈঠকও হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘চীন চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি ১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টনে নিতে সম্মত হয়েছে, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য ইতিবাচক খবর। পরের মৌসুমে ২ কোটি ৫০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীন।’
তবে চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সয়াবিন কেনার বিষয়ে কোনো সমঝোতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।তথ্যসূত্র: সামা টিভি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত কূটনীতি’ (Personal Diplomacy) আবারও একবার বিশ্ব রাজনীতিকে চমকে দিল। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই দীর্ঘ ফোনালাপ কি কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি, নাকি দুই পরাশক্তির মধ্যে নতুন কোনো কৌশলগত অংশীদারিত্বের সূচনা—তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই মুহূর্তে এটি নিশ্চিত যে, বিশ্ব রাজনীতিতে বরফ গলতে শুরু করেছে।