প্রকাশিত:
গতকাল

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LoC) দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি এবং পাল্টাপাল্টি ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, ভারত তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে এবং সীমান্তে সেনা সমাবেশ বাড়াচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লজ্জাজনক পরাজয়ের পর ভারত আবারও তার প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বাড়িয়ে তুলেছে। ভারত যতক্ষণ না তার আগ্রাসী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী নীতি পরিত্যাগ করবে, ততক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত যে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেই একই দৃঢ়তা ও কার্যকারিতা দেখাবে, যেভাবে শত্রু যুদ্ধবিমান মোকাবিলার ক্ষেত্রে দেখানো হয়েছে। আমরা শান্তি চাই, তবে তা হবে সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।
ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা ভারতের ‘কোল্ড স্টার্ট’ ডকট্রিন বা আকস্মিক হামলার মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে: সীমান্তে কোনো উস্কানি দেখা দিলে উপরের নির্দেশের অপেক্ষা না করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে ফ্রন্টলাইন সেনারা।আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী’ সরকারের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করবে পাকিস্তান।পাকিস্তান পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার শুধুমাত্র প্রতিরক্ষার জন্য নয়, বরং যেকোনো বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় এটি চূড়ান্ত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, কাশ্মীরিরা জীবন ও সন্তান ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনো আপস করবে না।
নয়াদিল্লি অবশ্য পাকিস্তানের এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, পাকিস্তান মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতে এই ধরনের রণহুঙ্কার দিচ্ছে। সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (High Alert) রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির মুজাফফরাবাদ সফর করে কাশ্মীরি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত জবাবের অঙ্গীকার করেন।
দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির বাংলাদেশের নির্বাচন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে দক্ষিণ এশিয়ায় কোনো বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে তা পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।