প্রকাশিত:
গতকাল
-6986c48dc7212.jpg&w=3840&q=75)
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর এর আগে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ভারতের রপ্তানি খাত বিশেষ করে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় ধরণের স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চলতি সপ্তাহে ঘোষিত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প ভারতকে ‘ট্যারিফ কিং’ বা শুল্কের রাজা বলে সমালোচনা করেছিলেন এবং ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে আজ হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি। ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং আমরা একটি ন্যায্য ও পারস্পরিক সুবিধাজনক বাণিজ্যের পথে হাঁটতে চাই।"
ট্রাম্পের সই করা এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ‘ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কিনবে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি রূপরেখা তৈরিতেও সম্প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে ভারত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত কারণ রয়েছে: : চীনকে বাণিজ্যিকভাবে একঘরে করতে ভারতের মতো বিশাল বাজারকে নিজেদের পাশে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন পণ্যে (যেমন- হার্লে ডেভিডসন বাইক বা আপেল) শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বড় ধরণের প্রতিরক্ষা চুক্তির আগে এই শুল্ক প্রত্যাহারকে একটি ‘গুডউইল জেসচার’ বা শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে নেওয়া হচ্ছে। দেশটি আগামী পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি, উড়োজাহাজ, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ভারতের ‘নিফটি’ (Nifty) এবং ‘সেনসেক্স’ (Sensex)-এর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে টাটা স্টিল এবং জেএসডব্লিউ স্টিলের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম এক লাফে কয়েক শতাংশ বেড়ে গেছে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ১৮ শতাংশ শুল্ক হারের কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাবেন। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়।
দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যকে আগামী এক দশকে দ্বিগুণ করতে সাহায্য করবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক টুইট বার্তায় বলেন, "এটি দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্বের জয়। আমরা আশা করি এই ধারাবাহিকতায় একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।"