প্রকাশিত:
গতকাল

দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া ৮০৭ জনের মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু এবং কিশোরী। এদের মধ্যে ১৯১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ৬১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক। এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের সন্ধান পাওয়া গেলেও ৫৭২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।নিখোঁজদের এই তালিকায় প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের তুলনায় নারীদের সংখ্যা দ্বিগুণ। গত ২০ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিখোঁজের ডায়েরি জমা পড়েছে উত্তর এবং পশ্চিম দিল্লির থানাগুলোতে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং রীতিমতো আতঙ্কের পরিস্থিতি। দিল্লির মানুষের নিরাপত্তা যেন ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” বিজেপির শাসনামলে রাজধানী কেন এতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিখোঁজদের বড় একটি অংশ ‘হিউম্যান ট্রাফিকিং’ বা মানব পাচারকারী চক্রের শিকার হতে পারে। সামাজিক কর্মীদের মতে, বিশেষ করে বস্তি এলাকা এবং রেল স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলগুলো থেকে শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে বেশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অঙ্গ পাচার অথবা জোরপূর্বক শ্রম কিংবা যৌনপল্লীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে কোনো সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক চক্র রাজধানীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে দিল্লি পুলিশ এই পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র দাবি করেন, দিল্লিতে নিখোঁজের হার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় কম। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সন্তান বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেই উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা নিখোঁজ ডায়েরি করেন, যা পরিসংখ্যানে যুক্ত হয়ে যায়।
নিখোঁজের এই পাহাড়প্রমাণ সংখ্যা পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, থানায় ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ অসহযোগিতা করছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তবে দিল্লি পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে বিশেষ টাস্কফোর্স (Special Task Force) গঠন করা হয়েছে।
দিল্লির স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের একা বাইরে ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিখোঁজ সংবাদ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নেটিজেনদের দাবি, রাজধানীর সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না এবং রাতের বেলা টহল পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখুক।
দিল্লির এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিরোধী দলগুলো দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দাগছে। তবে ৮০৭ জন নিখোঁজের এই রহস্যের জট কবে খুলবে এবং তারা আদৌ সুস্থভাবে ফিরে আসবে কি না, সেই উত্তর এখনো অজানা।
পুলিশের বার্ষিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দিল্লিতে মোট ২৪ হাজার ৫০৮ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৪২১ জনকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবুও রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশুর নিখোঁজ হওয়ার প্রবণতা নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তথ্যসূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস, ডয়েচে ভেলে, গালফ নিউজ