প্রকাশিত:
গতকাল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, পেশাদারিত্ব এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় বাহিনীর দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরাই ছিল এই সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। গাজীপুরে সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার–ভিডিপি সদস্যরাও সমাবেশে যুক্ত ছিলেন।
সমাবেশে প্রদত্ত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে মহাপরিচালক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে সকল সদস্যকে অটল পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় অবস্থানে থেকে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, ব্যালট বক্স ছিনতাই, জাল ভোট কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপসহ আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে, যাতে দ্রুত টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন আনসার–ভিডিপি সদস্যের মধ্যে দুইজন সদস্য সরাসরি নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দাখিল করবেন। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাগণ রেসপন্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং জেলা কমান্ড্যান্ট থেকে শুরু করে আনসার–ভিডিপি সদর দপ্তর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী অবজারভার টিম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। এ ব্যবস্থার ফলে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে না—এ কথা তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, “দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনায় শারীরিকভাবে সুস্থ, প্রশিক্ষিত ও স্মার্ট সদস্যদেরই এবারের নির্বাচনী দায়িত্বে বাছাই করা হয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, “দেশ ও বাহিনীর পতাকাকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রের অর্পিত এই পবিত্র দায়িত্ব এবং জনগণের আমানত সঠিকভাবে রক্ষা করাই সকল সদস্যের প্রধান কর্তব্য।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, আনসার–ভিডিপি শুধু নির্বাচনকালীন দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী শক্তি হিসেবে সদা প্রস্তুত একটি বৃহৎ ও সম্ভাবনাময় বাহিনী, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
সমাবেশের শেষাংশে মহাপরিচালক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে আনসার–ভিডিপি সদস্যরা আগামীতেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার–ভিডিপির ভূমিকার গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরেছে—যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব ভবিষ্যতের যেকোনো জাতীয় সংকট মোকাবিলায় আনসার–ভিডিপি বাহিনীকে আরও নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।