প্রকাশিত:
গতকাল

দীর্ঘ কয়েক দশকের নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে এসে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে নাটকীয় মোড় নিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত সর্বশেষ অফিশিয়াল মানচিত্রে এখন থেকে পুরো জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হলেও চরম অস্বস্তি ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চীন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কথা জানিয়ে দেয়া পোস্টে মানচিত্রটি যোগ করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের নতুন মানচিত্র নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি পাকিস্তান ও চীন। তবে নতুন মানচিত্রের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কাশ্মীর ইস্যুতে কার্যত ভারতের দাবিই মেনে নিল বলে দাবি করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। এর আগে মার্কিন প্রশাসন ভারতের যত মানচিত্র প্রকাশ করেছিল তাতে পাকিস্তান ও চীন নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ছিল না, এবারই প্রথম এমনটা দেখা গেল।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং সিআইএ (CIA) তাদের মানচিত্রে কাশ্মীরকে 'বিতর্কিত অঞ্চল' হিসেবে চিহ্নিত করত এবং ভারতের নিয়ন্ত্রিত অংশ ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত অংশকে আলাদা রঙ বা ডটেড লাইন দিয়ে দেখাত। তবে নতুন এই মানচিত্রে কোনো ডটেড লাইন নেই; বরং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর (PoK) এবং চীন নিয়ন্ত্রিত আকসাই চীনকেও ভারতের সীমানার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের উষ্ণ সম্পর্ক দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ‘বোর্ড অব পিসেও’ যোগ দিয়েছে পাকিস্তান। এর মধ্যে এমন মানচিত্র ইসলামাবাদের জন্য বড় ধাক্কা বলেই বিবেচিত হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক ইউরোপীয় দেশও এখন তাদের মানচিত্র পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারে, যা কাশ্মীর ইস্যুকে চিরতরে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এ সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে।
মানচিত্রের এই রেখা বদল কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যের বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ভারতের জন্য এটি এক বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হলেও, পাকিস্তান ও চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।