প্রকাশিত:
গতকাল

রাজধানীর শাহবাগ থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকা আজ বিকেলে এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রাকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এসময় সংঘর্ষে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই যমুনার অদূরে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। আজ বিকেল ৩টার দিকে তারা ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে যমুনার দিকে এগোতে চাইলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে।
শুরুতে কথা কাটাকাটি হলেও এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু করে। আন্দোলনকারীরাও ইট-পাটকেল ছুড়ে পাল্টা জবাব দেয়। এই সংঘর্ষের মধ্যেই সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের রাবার বুলেটে বিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাবেরের শরীরে একাধিক রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংগঠনটির নারী নেত্রী জুমা ও শান্তাসহ আরও অনেকে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা (KPI)। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে কোনো মিছিল বা জমায়েতের অনুমতি নেই। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে পুলিশ জানমাল রক্ষার্থে অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হয়।
বিকেল ৫টার পর থেকে আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছেড়ে হাসপাতালের দিকে অবস্থান নিয়েছেন। তবে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এ ধরনের সংঘর্ষ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চ থেকে শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব।’