প্রকাশিত:
২ জানুয়ারী, ২০২৬

ভোররাত থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছিল চার লেনের আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে। কিন্তু সেই কুয়াশাই কাল হয়ে দাঁড়ালো চালকদের জন্য। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে আসায় এক্সপ্রেসওয়ের পৃথক চারটি স্থানে একাধিক যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সিরিজ দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশা দেখা দেয়। রাতে ঢাকা থেকে সাদ আবদুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস পদ্মা সেতুর দিকে যাচ্ছিলে। একই লেনে যাচ্ছিল গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস। গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি রাত পৌনে ৯টার দিকে শ্রীনগরের বেজগাঁও বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে সাদ আবদুল্লাহ পরিবহনের বাসটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসের অন্তত ৯ জন যাত্রী আহত হন।
দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী এলাকায় দুটি ট্রাক ও একটি বাসের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। কুয়াশার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই লেনে একটি মালবাহী ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাকা বাসটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের ও পেছনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।
শ্রীনগর ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির চালক বাসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। ফায়ার ফাইটাররা দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর বাসের ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ ছাড়া আজ ভোর সোয়া পাঁচটার সময় লৌহজং উপজেলায় এক্সপ্রেসওয়ের দোগাগাছি এলাকায় মাওয়ামুখী একটি ট্রাকের পেছনে কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকে থাকা এক ব্যক্তি আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এবং হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে আহতদের উদ্ধার করে। আহত ৩০ জনকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়ের একপাশে যান চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে সকাল ১০টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এক্সপ্রেসওয়ের মতো উচ্চগতির রাস্তায় ঘন কুয়াশায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং চালকদের ব্যক্তিগত সতর্কতা ছাড়া এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে।