প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোতে আসন্ন সাংবিধানিক গণভোটের প্রচারণা চালানোর জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল (১১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর এই নির্দেশ দেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের স্বপক্ষে জনমত তৈরি করতে এবং ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ব্যাংকারদের সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে সভায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ব্যাংককে তাদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এবিবি চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে এরই মধ্যে নির্দেশনা এসেছে ব্যাংকগুলোর প্রতিটা শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করে দুটি করে ব্যানার ঝোলানোর। এর পাশাপাশি যেসব এনজিও বা প্রতিষ্ঠান এই জনসচেতনতার জন্য কাজ করবে, তাদের ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। আমরা এবিবির পক্ষ থেকেও টাকা দেব। আমি এই পদক্ষেপগুলোর পুরোপুরি পক্ষে। সাধারণ মানুষ বড় ধরনের সংস্কার চায়, দেশটা যেন ভালো থাকে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইতিপূর্বে জানানো হয়েছিল যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা কম। তাই সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও এই প্রচারণায় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহক ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে সংবিধান সংস্কারের গুরুত্ব পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকগুলোকে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় যুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু পক্ষ মনে করছে, রাষ্ট্রের বৃহত্তর সংস্কারের স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয়। তবে ভিন্নমতাবলম্বীদের মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো একটি পক্ষ নিয়ে প্রচারণায় নামানো পেশাদারিত্বের পরিপন্থী হতে পারে।
মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, এই সরকার সাধারণ সরকার নয়, এটা অন্তর্বর্তী সংস্কারমুখী সরকার। তাই এই সরকার এভাবে আমাদের সংস্কার বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে অবশ্যই বলতে পারে। আমরা ব্যাংকগুলো দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করব।
গণভোটের তারিখ ঘনিয়ে আসায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রচারণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে ব্যানার টাঙানোর এই সিদ্ধান্ত সেই ব্যাপক প্রচার কৌশলেরই একটি অংশ।