প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এখনই কমানো সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
অর্থ উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জনপ্রিয়তার চাপে পড়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এই মুহূর্তে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো সহজ নয়। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের স্বার্থকে আগে বিবেচনা করতে হয়।”
উপদেষ্টা বলেন, অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে ব্যর্থ হবো না আশা করি। দ্রুত বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবো, এটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশের ব্যবসায়ী সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হারের কারণে ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। তারা সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হারের দাবি জানালেও উপদেষ্টা আজ বলেন, “ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহায়তা ছাড়া কেবল সরকারের একার পক্ষে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ও মজুদদারি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশ্বস্ত করেন যে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের কাজ চলছে এবং এর ফলাফল মানুষ শীঘ্রই দেখতে পাবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত অর্থ সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো উন্নত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের ওপর বিদ্যমান কড়াকড়ি বজায় থাকতে পারে।
সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা সিঙ্গাপুর হয়ে যাবো-এমন কথা বলছি না। তবে চেষ্টা ও ধৈর্য ধরে কাজ করলে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও সবাই মিলে বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থসচিব খাইরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হাই সরকার, ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পর এটা স্পষ্ট যে, শিল্প ও ব্যবসা খাতের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধা পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।