প্রকাশিত:
গতকাল

আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী, করযোগ্য আয় থাকার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তির যদি নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদ থাকে, তবে তাকে আয়ের ওপর প্রদেয় করের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ 'সারচার্জ' বা সম্পদ কর হিসেবে দিতে হয়।বর্তমানে কোনো করদাতার নিট সম্পদের পরিমাণ যদি ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করে, তবেই তাকে সারচার্জ দিতে হবে। অর্থাৎ, ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত নিট সম্পদে কোনো সারচার্জ নেই।
নিট সম্পদ হলো আপনার মোট অর্জিত সম্পদ (জমি, ফ্ল্যাট, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, ব্যাংকে জমা টাকা, গাড়ি ইত্যাদি) থেকে আপনার গৃহীত বৈধ ঋণের পরিমাণ বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে। আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত সম্পদের মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই এই সারচার্জ নির্ধারিত হয়।
মোটাদাগে তিন ধরনের উপায়ে সারচার্জ আরোপের বিষয়টি ঠিক করা হয়।
১. একজন করদাতার সম্পদের পরিমাণ অর্থাৎ বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, কৃষি ও অকৃষি জমিসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য যদি চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে সারচার্জ দিতে হবে।
২. যদি নিজ নামে একের অধিক মোটর গাড়ি থাকে, তাহলেও সারচার্জ আরোপ হবে। বর্তমানে অনেকের নামে একাধিক গাড়ি থাকে। তবে অনেকে নিজ নামে গাড়ি দেখান না। নিজের প্রতিষ্ঠান বা স্ত্রী–সন্তানের নামে গাড়ি দেখান।
৩. কোনো করদাতার মোট আট হাজার বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহসম্পত্তি থাকলেও সারচার্জ দিতে হবে।
এখানে মনে রাখতে হবে, ওপরের তিন ধরনের সম্পদের একটিও যদি কোনো করদাতার থাকে, তাহলে সারচার্জ দিতে হবে।
একজন করদাতার নিট সম্পদের মূল্য চার কোটি টাকার কম হলে সারচার্জ দিতে হবে না। নিট সম্পদের মূল্য চার কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম, তাহলে ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ বসবে।
নিট সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম, তাহলে ২০ শতাংশ হারে সারচার্জ বসবে।
আর নিট সম্পদের মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ৫০ কোটি টাকার কম হলে ৩০ শতাংশ হারে সারচার্জ হবে। আর নিট সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রদেয় করের ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।
সারচার্জ বাজারমূল্যে হিসাব করা হয় না। ফলে দুই থেকে তিন যুগ কোনো সম্পদের মূল্য বা প্লটের দাম এক লাখ টাকা হলে এখনো করনথিতে সেই দামই দেখাতে হবে। ফলে সারচার্জের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন অনেক সম্পদশালী করদাতা।