প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আসন্ন সেচ মৌসুমে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ভারত থেকে জি-টু-জি (Sovereign-to-Sovereign) চুক্তির আওতায় ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে খরচ হবে এক হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাজেট ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এই অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নুমানিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে আমদানি করা হবে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই ডিজেলের একটি বড় অংশ ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের (IBFPL) মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশে আসবে। এর ফলে জাহাজ ভাড়া এবং পরিবহন জনিত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাবে।
জানা গেছে, প্রতি ব্যারেল ডিজেল (প্রিমিয়াম) ৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার ও রেফারেন্স প্রাইস ৮৩ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার। ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল থেকে ডিজেল আমদানি করছে বাংলাদেশ। পাইপলাইন নির্মাণের পূর্বে এনআরএল থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে, পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।
বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) জানিয়েছে, এই আমদানির ফলে দেশে অন্তত দুই মাসের অতিরিক্ত মজুত নিশ্চিত হবে, যা যেকোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতার মধ্যে ভারতের সাথে এই দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনবে।
ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে— সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নুমালীগড় থেকে ডিজেল আনার চুক্তি ১৫ বছরের। এই চুক্তি আমরা করিনি, এই চুক্তি অনেক আগের। সেই চুক্তির অধীনে আনা হচ্ছে।