প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

হল-মার্ক গ্রুপের বহুল আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির ধাক্কা কাটিয়ে আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করে তুলেছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জনের পথে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, যাতে আর্থিক স্বচ্ছতা জোরদার হয় এবং অধিকসংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যায়।
সোনালী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটি তাদের অপারেটিং প্রফিট বা পরিচালন মুনাফায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিক এবং ২০২৬ সালের শুরুতেই ব্যাংকটি কয়েক হাজার কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, আমানত বৃদ্ধি এবং ঋণের সুদ থেকে আসা আয় বৃদ্ধির ফলেই এই মুনাফা সম্ভব হয়েছে।
তবে হল–মার্ক, বেক্সিমকো, থারমেক্স, ওরিয়নসহ কয়েকটি গ্রুপের ঋণ ও বিনিয়োগ আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি। ফলে কমছে না খেলাপি ঋণ। সোনালী ব্যাংকের ২০২৫ সালভিত্তিক আর্থিক চিত্র পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বলেন, ‘আমরা ঋণ আদায় জোরদার করার পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে উৎসাহিত করছি। এ ছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। একটি শক্তিশালী ভিত্তির ব্যাংক হতে যা করা দরকার, তা করে যাচ্ছি। এতে ব্যাংক ভালো আয় করছে।’
বিদায়ী বছরে ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখা গেছে পরিচালন মুনাফায়। ২০২১ সালে যেখানে পরিচালন মুনাফা ছিল মাত্র ২ হাজার ৯০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা ৪ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা।
মুনাফার পথে হাঁটলেও ব্যাংকটির সামনে এখনো কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—পুরানো মন্দ ঋণগুলো সম্পূর্ণভাবে রাইট-অফ করা এবং সরকারি প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করা। তবে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ মনে করছে, দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে সোনালী ব্যাংক তার স্বর্ণালি দিন ফিরে পাবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রতি মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, সোনালী ব্যাংকের এই ঘুরে দাঁড়ানো সেই ধারণাকে ইতিবাচকভাবে বদলে দিচ্ছে। বড় মুনাফার এই ধারা বজায় থাকলে এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।