প্রকাশিত:
৭ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে আর কাগুজে ফাইলে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা যাবে না। করদাতাদের হয়রানি কমাতে এবং রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার যে ঝামেলা, তা এড়াতে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সার্কেল এন্ট্রি দেয়নি। পেপার রিটার্ন যারা দিয়েছে, তাদেরটা অনলাইনে এন্ট্রি দেওয়া হবে। এনবিআরের সব কাজ ডিজিটাইজড করা হবে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলে অনেক সময় তথ্যের গরমিল থাকে এবং অসাধু উপায়ে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকে। অনলাইন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক হলে প্রতিটি লেনদেন কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে, যা ভ্যাট ফাঁকি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আগে অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করতেন যে, ম্যানুয়াল রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। অনলাইন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক হলে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করতে হবে না। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকেই এই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যারা প্রযুক্তিবান্ধব নন, তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং হেল্প-ডেস্কের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি ভ্যাট সার্কেল অফিসে অনলাইন রিটার্ন দাখিলে সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ডেডিকেটেড টিম কাজ করবে।
অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউলটি বাস্তবায়নের ফলে করদাতাদের রিফান্ড আবেদন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পন্ন করা সম্ভব হবে। এখন থেকে রিফান্ড আবেদন দাখিল ও তা প্রাপ্তির জন্য করদাতাদের ভ্যাট কার্যালয়ে আসতে হবে না।
ভ্যাট ব্যবস্থাকে শতভাগ ডিজিটাল করা হলে শুধু রাজস্ব আয়ই বাড়বে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির অবসান দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।