প্রকাশিত:
১ ঘন্টা আগে

মালিকপক্ষের তীব্র আপত্তি এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকির মুখে সরকার এই আলোচনার উদ্যোগ নিলেও শ্রমিকনেতাদের বিরোধিতার মুখে গতকাল বুধবারের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভাটি স্থগিত করা হয়েছে।
গত ১৭ নভেম্বর সরকার শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে। এতে শ্রমিকের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন করা, ২০ জনের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং ১০০ জন শ্রমিক থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাধ্যতামূলক করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শ্রমিক সংগঠনগুলো একে স্বাগত জানালেও তৈরি পোশাক ও বস্ত্রকল মালিকদের তিন সংগঠন—বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অভিযোগ:
শ্রমিকের সংজ্ঞায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) গঠনের বাধ্যবাধকতা শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "মালিক-শ্রমিক-সরকার ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সিদ্ধান্ত রহস্যজনকভাবে বদলে ফেলা হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের ওপর আমাদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এভাবে আইন কার্যকর হলে শিল্পকারখানা সংকটে পড়বে।" প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে রিট করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন মালিকপক্ষের নেতারা।
শ্রমিকনেতারা মনে করছেন, মালিকপক্ষের চাপের মুখেই সরকার তড়িঘড়ি করে আইনটি আবার সংশোধনের চিন্তা করছে। বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার বলেন, “বাস্তবায়নের আগেই কেন সংশোধনের আলোচনা শুরু হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। কোনো আলোচনার প্রয়োজন হলে তা নতুন সরকারের আমলে হওয়া উচিত।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার জানান, "অধ্যাদেশ জারির পর কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। মালিকদের সুবিধা দিতেই ছয় মাস না যেতে কেন আবার সংশোধনের চেষ্টা চলছে?"
গতকাল ১৪ জানুয়ারি টিসিসির ৯২তম সভা হওয়ার কথা ছিল, যার আলোচ্যসূচিতে ছিল শ্রম আইনের 'প্রয়োজনীয় পরিমার্জন'। তবে শ্রমিকনেতারা এই আলোচনার বিরোধিতা করে বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে মঙ্গলবার হঠাৎ করেই সভাটি স্থগিত করে মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, টিসিসির সভার পরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
মূল সংশোধনীতে যা ছিল:
মাতৃত্বকালীন ছুটি: ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন।
উৎসব ছুটি: ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন।
মজুরি কাঠামো: প্রতি ৫ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর অন্তর নির্ধারণ।
ট্রেড ইউনিয়ন: ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে নিবন্ধন।
প্রভিডেন্ট ফান্ড: ১০০ জন শ্রমিক থাকলে বাধ্যতামূলক।
সরকারের এই দ্বিমুখী অবস্থানে শ্রম খাতে অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে মালিকপক্ষ আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকরা প্রাপ্ত অধিকার রক্ষায় অনড় অবস্থানে রয়েছে।