প্রকাশিত:
৮ জানুয়ারী, ২০২৬

অবসায়ন বা বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া ব্যাংকবহির্ভূত ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এ জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থ জোগান দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়নপ্রক্রিয়া শুরু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তি আমানতকারীদের অন্তত একটি বড় অংশ বা আসল টাকা ফেরত দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমরা এই সপ্তাহ থেকেই প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর ঘোষণা করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করছি। আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জমানো টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), এফএএস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং। এর মধ্যে প্রথম চারটি আর্থিক খাতের বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের অনিয়মের কারণে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আর আভিভা ফাইন্যান্স ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সাইফুল আলম বা এস আলমেরও প্রতিষ্ঠান। পি কে হালদারও ছিলেন এস আলমের ঘনিষ্ঠ।
অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন করে পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে চলে আসবে। এরপর শুরু হবে সম্পদ মূল্যায়ন। যদি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা শোধ করা সম্ভব না হয়, তবে সরকারের দেওয়া বিশেষ তহবিল থেকে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার দুই দফায় টাকা ছাড় করবে বলে জানা গেছে। তাই আমানতকারীদেরও দুই দফায় টাকা ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হলেও টাকা পাওয়া নিয়ে আমানতকারীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তি আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টাকা ফেরত পাবেন। যারা এখনো আবেদন করেননি বা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে আছেন, তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের জুন শেষে ৩৫টি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা খাতটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এই ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে ব্যক্তি আমানতকারীরা যাতে কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই তাদের টাকা ফেরত পান, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।