প্রকাশিত:
৭ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের আবাসন খাতে গতি ফেরাতে এবং নির্মাণ সামগ্রীর ক্রমবর্ধমান মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে গৃহঋণের (Home Loan) সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে একজন গ্রাহক ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি নির্মাণের জন্য ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, একক গ্রাহককে ব্যাংক সর্বোচ্চ কত পরিমাণ আবাসন ঋণ দিতে পারবে, তা নির্ভর করবে সেই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ওপর।
এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। গতকাল মঙ্গলবার পরিপত্র জারি করে ভোক্তা ঋণসংক্রান্ত প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনের ২৩ নম্বর বিধিতে সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দেশের আবাসন খাতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের স্বপ্নপূরণ আরও সহজ করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে গৃহনির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (BRPD) থেকে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।
এখন থেকে খেলাপি ঋণ যত কম, তত বেশি আবাসন ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে ওই ব্যাংক গৃহনির্মাণ খাতে চার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।
খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশের নিচে থাকলে তিন কোটি এবং ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি থাকা ব্যাংক আগের মতোই সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা দিতে পারবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, কোনো ফ্ল্যাটের দর যদি হয় পাঁচ কোটি ৭১ লাখ টাকা, তখন ৫ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ আছে এমন ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ চার কোটি টাকার ঋণ নিতে পারবেন ভোক্তারা। এই অনুপাতে অন্য ক্ষেত্রেও ৭০ শতাংশ নেওয়া যাবে।
যেকোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যাদের নিয়মিত আয় এবং ঋণ পরিশোধের পর্যাপ্ত সামর্থ্য রয়েছে, তারা ব্যাংকের নিয়ম মেনে এই ৪ কোটি টাকার ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রতিটি ব্যাংক তাদের নিজস্ব ক্রেডিট পলিসি অনুযায়ী গ্রাহকের ঋণ ঝুঁকি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নীতিমালা ২০০৪ ও ২০১৯ সালে জারিকৃত পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলোর পরিবর্তে কার্যকর হবে। আবাসন ঋণের সীমা সংশোধিত হলেও ভোক্তা ঋণসংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।