প্রকাশিত:
গতকাল

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ডলারের বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন।
জানুয়ারি ২০২৬: ৩১৭ কোটি (৩.১৭ বিলিয়ন) ডলার (দেশের ইতিহাসে ৩য় সর্বোচ্চ)।
ডিসেম্বর ২০২৫: ৩২২ কোটি (৩.২২ বিলিয়ন) ডলার (দেশের ইতিহাসে ২য় সর্বোচ্চ)।
সর্বোচ্চ রেকর্ড: গত বছরের মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার (ঈদুল ফিতর উপলক্ষে)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন রমজানে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে এবং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানো বাড়িয়ে দিয়েছেন।
রেমিট্যান্সের এই চাঙাভাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৭ ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী:
মোট (গ্রস) রিজার্ভ: ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার।
প্রকৃত রিজার্ভ (BPM-6 অনুযায়ী): ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে এবং বাজারে ডলারের বিনিময় হারও স্থিতিশীল থাকছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২,১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২২.৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের পুরো ক্যালেন্ডার বছরে দেশে মোট ৩,২৮২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা এই চাঙাভাবের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমেছে এবং অর্থ পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকা পাঠাতে নিরাপদ বোধ করছেন।
রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে দেশে অর্থ প্রবাহের স্বাভাবিক প্রবণতাও একটি বড় কারণ।
রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বজায় থাকলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ডলার সংকট নিরসনে বড় ধরনের মাইলফলক অর্জিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।