প্রকাশিত:
গতকাল

সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের দায়ে ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স ও রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে দেশটির নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এলাকা থেকে সাবেক এই ব্রিটিশ প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সময় সকালে উইন্ডসর ক্যাসেল সংলগ্ন তার বাসভবন 'রয়্যাল লজ' থেকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের একটি বিশেষ দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লন্ডনের একটি সুরক্ষিত পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কোনো প্রকার রাজকীয় আড়ম্বর ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি, তবে রাজপ্রাসাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে:
কুখ্যাত জেফরি এপস্টাইন মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো নতুন নথি বা ডিজিটাল প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে।
লন্ডনের একটি আবাসন প্রকল্পের লেনদেনে বড় ধরনের আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তদন্তকারী সংস্থাকে ভুল তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপনের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার ওপর।
রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য না এলেও বাকিংহাম প্যালেস একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে:
"এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং পুলিশ তাদের কাজ করছে। রাজপরিবার কোনোভাবেই বিচারিক কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।"
সূত্রের খবর, রাজা চার্লস আগে থেকেই প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন, ফলে এই গ্রেপ্তারে রাজপরিবার খুব একটা অবাক হয়নি।
এই গ্রেপ্তারের খবরে লন্ডনের রাস্তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজতন্ত্র বিরোধীরা একে "আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা" হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রাজভক্তরা একে রাজপরিবারের সম্মানের ওপর বড় আঘাত বলে মনে করছেন।
প্রিন্স অ্যান্ড্রুর এই গ্রেপ্তার কেবল তার ব্যক্তিগত পতন নয়, বরং এটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আদালত যদি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে তাকে রাজপ্রাসাদের আরাম-আয়েশ ছেড়ে সাধারণ কয়েদির মতোই কারাগারে রাত কাটাতে হতে পারে।