প্রকাশিত:
গতকাল

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি রমজানের প্রায় ১০ দিন আগে সানাসহ উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা রাজধানীতে পরবর্তী দফার জন্য প্রস্তুত স্লোগান দিয়ে একটি বড় সমাবেশ করেছে। সমাবেশে তারা ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি সংহতি জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হুথি নেতা আবদেল মালিক আল হুতি এক ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় এবং ইরানকে সেই পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখে।
সম্প্রতি লোহিত সাগরে উত্তেজনার ফলে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে পুনরায় বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, রমজানের মধ্যে যদি সংঘাত আরও বাড়ে, তবে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। সানা শহরের এক বাসিন্দা বলেন,
"আগে আমরা রমজানে নতুন পোশাক আর ভালো খাবারের চিন্তা করতাম। এখন আমাদের চিন্তা কেবল বেঁচে থাকা নিয়ে। আমাদের কাছে রমজান মানে এখন বাড়তি ক্ষুধার যন্ত্রণা।"
রমজানের ইফতার ও সেহরির সময় ইয়েমেনের অধিকাংশ শহর অন্ধকারে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জেনারেটর চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে গরমে রোজা রাখা সাধারণ মানুষের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
ইয়েমেনের আবাআদ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বিশ্লেষক আবুল সালাম মোহাম্মদ বলেন, হুথিদের ভবিষ্যৎ অনেকটাই ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত তীব্র হলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার উত্তরাঞ্চলে হুথিদের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে নতুন অভিযান শুরু করতে পারে।
ইয়েমেনের জন্য রমজান এখন কেবল একটি ধর্মীয় ইবাদতের মাস নয়, বরং টিকে থাকার এক কঠিন লড়াই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দ্রুত খাদ্য সহায়তা এবং লোহিত সাগরের উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা না নেয়, তবে এই রমজান ইয়েমেনিদের জন্য গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।