প্রকাশিত:
৯ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশের নাট্যঙ্গনে ‘শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিকতার বিকাশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে নাট্যদল ‘এথিক’। সমকালীন সামাজিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে নাটকের মূল উপজীব্য করে দলটি ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
এ বছর ‘এথিক তারুণ্য সম্মাননা’ পাচ্ছেন থিয়েটারের রাশেদুর রহমান, প্রাচ্যনাটের মাহফুজ আহাম্মদ, তাড়ুয়ার ইফতি আহমেদ, বাতিঘর থিয়েটারের সঞ্জয় হালদার, দেশ নাটকের নাঈম হাসান, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের রানা সিকাদার, প্রাঙ্গণেমোরের বাঁধন সরকার, পালাকারের সাজ্জাদ হোসেন, বটতলার নাফিজা তাসনিম খানম, অনুস্বরের আবির সায়েম, থিয়েটার ফ্যাক্টরির আশা আক্তার, তীরন্দাজ রেপার্টরির তনুশ্রী কারকুন, বিবেকানন্দ থিয়েটারের রাজীব দেব, দৃশ্যকাব্যের আফরোজা বিথি, স্বপ্ন দলের সুমাইয়া শিশির, বাংলাদেশ থিয়েটারের সৈকত শরীফ এবং পদাতিক নাট্যসংসদের তানজিদ ইসলাম।
এথিকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, নাট্যকার মাসুম রেজা এবং কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ।
এথিক কেবল নাটক মঞ্চায়নেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন নাট্যকর্মী তৈরির লক্ষ্যে দলটি নিয়মিত ‘নাট্য কর্মশালা’ আয়োজন করে থাকে। প্রতি বছর একঝাঁক তরুণকে অভিনয়, আলোক পরিকল্পনা এবং মঞ্চ সজ্জার ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে মঞ্চের জন্য তৈরি করে এথিক। দলের প্রবীণ ও তরুণ কর্মীদের এই সমন্বয়ই এথিকের প্রাণশক্তি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে প্রদর্শিত হবে নাটক ‘হাঁড়ি ফাটিবে’। ২০১০ সালে উৎপল দত্তের এই নাটক দিয়ে মঞ্চে যাত্রা শুরু করেছিল নাট্যদলটি। নির্দেশনা দিয়েছেন মিন্টু সরদার।
মঞ্চ নাটকের দুর্দিনে ‘এথিক’-এর মতো দলগুলোর সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, সত্য ও সুন্দরের চর্চা কখনও থেমে থাকে না। পর্দার আড়ালের অন্ধকার সরিয়ে আলোর বার্তা নিয়ে এথিক আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা নাট্যপ্রেমীদের।