প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

‘মুজিব ভাই’ চলচ্চিত্র নির্মাণে চার হাজার ২১১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘খোকা’ চলচ্চিত্র নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ‘মুজিব ভাই’ সিআরআইয়ের মাধ্যমে নির্মিত।
সম্প্রতি প্রকাশিত শ্বেতপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। শ্বেতপত্র কমিটি উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত।
৪৭২ পৃষ্ঠার এই বিশাল প্রতিবেদনে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো—সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর মাধ্যমে ‘মুজিব ভাই’ নামক একটি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ২১১ কোটি ২২ লাখ টাকা। একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পেছনে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়কে ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘ডিজিটাল লুটপাট’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত শ্বেতপত্র কমিটির ১৩টি অধ্যায়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল রূপান্তর’ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার আড়ালে সরাসরি দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইসিটি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এবং হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একাধিক প্রকল্পে এমন অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে কমিটি।
শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, গত এক দশকে আইসিটি খাতকে একটি নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী চক্রের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “শ্বেতপত্রে যে তথ্যচিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং এটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন। দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
শ্বেতপত্র কমিটিতে ছিলেন পিজিসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজওয়ান খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চৌধুরী মফিজুর রহমান, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন, বুয়েটের অধ্যাপক রিফাত শাহরিয়ার, ব্যারিস্টার আফজাল জামি সৈয়দ আলী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিত ও সাংবাদিক মো. শরিয়ত উল্লাহ।
তৎকালীন নীতিনির্ধারকরা এই সিনেমাটিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যম হিসেবে প্রচার করলেও, শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী এটি ছিল স্রেফ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা সরানোর একটি বাহানা।