প্রকাশিত:
গতকাল

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সফল তেহরান সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তৃতীয়বারের মতো টেবিল বৈঠকে বসছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন যে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ সমাধানে কোনো চুক্তি না হলে সত্যিই খারাপ ঘটনা ঘটবে।
রয়টার্স রোববার জানিয়েছে, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন করে ছাড় দিচ্ছে। যতক্ষণ না এতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তেহরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরবে না।
ইরান তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ১৮৫ কেজির বেশি না বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি আইএইএ-কে দিয়েছে, তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় কোনো অর্থনৈতিক ছাড় পাওয়া যায় কি না।
ইরানের ওপর থাকা কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং লোহিত সাগরে চলা অস্থিরতা কমানোর প্রশ্নে আলোচনা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ইরান কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। তেহরান চায় নতুন কোনো বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে এবং সম্ভাব্য 'সর্বোচ্চ চাপ' (Maximum Pressure) নীতি আসার আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে।
ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের দাবি। এই বৈঠকটি ইরানকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনার শেষ সুযোগ হতে পারে।
তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আলোচনা চায় তবে তা হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, "যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে, তবে আমরা পরমাণু চুক্তিতে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তনে প্রস্তুত।"
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তারা এখনো কূটনীতিতে বিশ্বাসী, তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কোনোভাবেই অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে যেতে দেওয়া হবে না।
আগামী বৃহস্পতিবার এটিই প্রথম বৈঠক যেখানে মূল পারমাণবিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সরাসরি আলোচনার টেবিলে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কোনো বড় ঘোষণা আসে, তবে তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা থামিয়ে দিতে বড় ভূমিকা পালন করবে। তবে ইসরায়েলের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো এই বৈঠকের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।