প্রকাশিত:
গতকাল

স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়। এতে বলা হয়, আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে, ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাই এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার একটি সফল মেয়াদ কামনা করি। আমাদের উভয় দেশকে আরো সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করার একটি সুযোগ আমাদের রয়েছে। সামনে আসা দিনগুলোর জন্য আপনাকে শুভকামনা।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চালিয়ে আসছে:
১. GSOMIA (General Security of Military Information Agreement): এটি সামরিক তথ্য বিনিময়ের একটি সুরক্ষা কাঠামো।
২. ACSA (Acquisition and Cross-Servicing Agreement): এটি মূলত লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহ সংক্রান্ত সহযোগিতা।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই চুক্তিগুলো সম্পন্ন করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, তারেক রহমান এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়ন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে আগ্রহী হবেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের ওপর ট্রাম্পের এই প্রত্যাশার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। যেমন:
বঙ্গোপসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকার ওয়াশিংটনের জন্য বিশ্বস্ত অংশীদার হতে পারে বলে রিপাবলিকানরা মনে করেন।সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিএনপির পূর্বতন অবস্থানকে ওয়াশিংটন ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে। তারেক রহমান ইতিমধ্যে বিভিন্ন বক্তৃতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক বাহিনী গড়ার কথা বলেছেন, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় বাজার তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান ইতিমধ্যেই দলের বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে এসব প্রতিরক্ষা চুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তারেক রহমানের বার্তা স্পষ্ট—দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখেই যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করা হবে।
তবে এই পথ খুব একটা সহজ নয়। প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্ক ভারসাম্য রাখা এবং চীনের সাথে বিদ্যমান অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো চালু রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করা তারেক রহমানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হবে।
তারেক রহমানের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই 'প্রত্যাশা' বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। যদি তারেক রহমান এই কূটনৈতিক চাপ সামলে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোতে অগ্রসর হন, তবে তা কেবল বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা মানচিত্রকেও আমূল বদলে দেবে।