প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও সামরিক স্তরে যোগাযোগ ও আস্থা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়া দিল্লিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন যে, কৌশলগতভাবে দুই দেশই একে অপরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই পারস্পরিক নির্ভরতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন:
“বাংলাদেশের সেনাপ্রধান সম্প্রতি বলেছেন যে, কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশের কাছে ভারত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলতে চাই, এর উল্টোটাও ঠিক—ভারতের কাছেও বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রতিবেশী, আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে এবং একে অপরকে বুঝতে হবে। যেকোনো ধরনের শত্রুতা বা বিদ্বেষ কোনো পক্ষের জন্যই ভালো ফল আনবে না।”
ভারতীয় সেনাপ্রধান আরও বলেন, এই মুহূর্তে তিন বাহিনীই তাদের যোগাযোগের সব চ্যানেল পুরোপুরি খোলা রেখেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে এবং আমি সেখানে তাদের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
“একইভাবে, অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমেও আমরা যোগাযোগ বজায় রাখছি। আমরা সেখানে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলাম, যারা মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে, নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমানবাহিনীর প্রধানও কথা বলেছেন।”
দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আয়োজিত যৌথ সামরিক মহড়া বর্তমানে স্থগিত থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে এটি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের এনডিসিতে (ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ) বাংলাদেশি অফিসারদের অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর কোনো পদক্ষেপই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়।
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে সেনাপ্রধান বলেন, এই সরকার দীর্ঘমেয়াদী না কি স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে তিনি একটি ‘নির্বাচিত সরকার’ আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।