প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় ‘আহতদের হদিস না পাওয়া’ এবং ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ৫ নভেম্বর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জনৈক শরিফ হোসেন ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তার দাবি ছিল, ৪ আগস্ট ধানমন্ডি এলাকায় আন্দোলন চলাকালীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে সাহেদ আলীসহ ১০ জন গুরুতর আহত হন। এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ এ আরাফাত এবং সাদ্দাম হোসেনসহ প্রভাবশালী নেতাদের আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তকালে থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ আহতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পিবিআই কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞাঁ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এ মামলায় যাদের আহত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গেজেটে তাদের নাম পাওয়া যায়নি। তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আহতদের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’
তদন্তে জানা যায়, বাদী শরীফ এজাহারে দাবি করেন, তার ভাই ছাড়াও ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তবে আহতদের পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য না থাকায় কলেজগুলোতে খোঁজ করেও তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আশপাশের হাসপাতালগুলোতেও খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু মামলায় উল্লেখিত কোনো আহত ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসা নেননি বা ভর্তি হননি বলে তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, মামলার বাদী শরিফ হোসেন নিজেও তদন্তে কোনো প্রকার সহযোগিতা করেননি। তিনি আহতদের কোনো ছবি, ভিডিও বা মেডিকেল সার্টিফিকেট সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এক পর্যায়ে বাদী নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি অন্যের কথায় বা আবেগের বশবর্তী হয়ে পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়াই মামলাটি করেছিলেন।
তবে মামলার বাদী শরীফ বলেন, ‘আমি তদন্ত সংস্থার সঙ্গে দেখা করেছি। মামলাটা করার পর থেকেই থ্রেট পাচ্ছি। আসামিরা হুমকি দিয়েছে। বিচার চাওয়া কি অপরাধ?’
তথ্যের অসংগতি এবং বাস্তব ভুক্তভোগীর অভাবে মামলাটি আইনিভাবে ভিত্তিহীন হয়ে পড়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। যদি আদালত পিবিআই-এর এই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন, তবে শেখ হাসিনাসহ বাকি আসামিরা এই সুনির্দিষ্ট মামলা থেকে আইনত অব্যাহতি পাবেন।