প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় নিয়েছে বাদীপক্ষ। আদালত সময় মঞ্জুর করে অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য ১৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন।
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্তকারী সংস্থা কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) পর্যালোচনার জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেছেন মামলার বাদী পক্ষ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আবেদন করা হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন এবং আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে বাদীকে তার অবস্থান জানানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য তিনি দুই দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। বাদীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
এদিন হাদির ভাই ওমর হাদিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, ‘অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য আমরা দুই দিন সময় নিয়েছি। ১৫ জানুয়ারি আপত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
হাদির হত্যার পর, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব থানা পুলিশের পরিবর্তে ডিবি পুলিশের হাতে দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে আসামি ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত বাদীর মৌলিক অধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী দুই কার্যদিবস সময় দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ জানুয়ারি বাদী পক্ষকে জানাতে হবে তারা এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর সন্তুষ্ট কি না। যদি তারা নারাজি দেন, তবে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবেন।
ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় এই তদন্ত প্রতিবেদনটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়। বাদীর ২ দিনের এই পর্যালোচনার পর নির্ধারিত হবে মামলাটি বর্তমান প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এগোবে নাকি পুনরায় নতুন কোনো তদন্তের আদেশ আসবে।