প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ। অটোগ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি প্রকৌশলী সিরাজুল মাওলা।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনেক স্টেশনের প্রবেশপথে ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’ কিংবা ‘নো স্টক’ লেখা সাইনবোর্ড। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে চালকদের, যা চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।
ঢাকার গাবতলী, তেজগাঁও এবং মালিবাগ এলাকার কয়েকটি অটোগ্যাস স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং প্রাইভেটকার গ্যাসের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বেশিরভাগ পাম্পই গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না।
বাজার সংশ্লিষ্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলার সংকটের কারণে এলসি (LC) খোলা যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত ঋণপত্র খুলতে না পারায় আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে সময়মতো গ্যাস আনতে পারছেন না। ফলে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে মজুদ কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা পর্যায়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে।
প্রকৌশলী সিরাজুল মাওলা বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাই। সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অটোগ্যাস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ১০০০ এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন রয়েছে। দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও পরিচালন ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা দেউলিয়ার দারপ্রান্তে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে নজিরবিহীন অরাজকতা বিরাজ করছে। ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারিত থাকলেও অনেক জায়গায় ১৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে।গ্যাস না পেয়ে নিরুপায় হয়ে চালকরাও বাড়তি দামেই গ্যাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজি যেহেতু আমদানিনির্ভর, তাই এই সংকট কাটাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে আমদানিকারকদের এলসি জটিলতা নিরসন করতে হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলো কেন ডিলারদের গ্যাস দিচ্ছে না, সে বিষয়ে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
সংকটের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, নভেম্বর ২০২৫ মাসে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি হলেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নাই। এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে; কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।