প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলায় জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিনজন রোহিঙ্গা। তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং।
সোমবার ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশন এই তথ্য জানিয়েছে।
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়া তিন রোহিঙ্গা নাগরিক আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নেদারল্যান্ডসের হেগ-এর উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বিচার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাসরি সাক্ষ্য প্রদান মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালিয়েছিল, তার ফলে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাম্বিয়া আইসিজে-তে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করে।
নিরাপত্তার খাতিরে সাক্ষীদের নাম প্রকাশ করা না হলেও জানানো হয়েছে যে, তাদের মধ্যে একজন নারী এবং দুজন পুরুষ রয়েছেন। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছিলেন।
হাইকমিশনার সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতার স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং মানবাধিকার, জবাবদিহি ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রতি কানাডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মিয়ানমার শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে বর্তমান জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। গত বছরগুলোতে মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষ হয়েছে এবং গাম্বিয়া তাদের সওয়াল-জবাব জমা দিয়েছে। এই তিন রোহিঙ্গার সাক্ষ্য সরাসরি রেকর্ড করার মাধ্যমে আদালত চূড়ান্ত রায়ের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ শিবিরে থাকা সাধারণ রোহিঙ্গারা এই খবরে আশার আলো দেখছেন। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (ARSPH)-এর একজন প্রতিনিধি বলেন, "আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছি বিশ্বকে আমাদের দুঃখ জানানোর জন্য। আমাদের তিন ভাই-বোন যখন আদালতে কথা বলবেন, তখন আমরা মনে করব পুরো রোহিঙ্গা জাতি সেখানে কথা বলছে।"
হাইকমিশনার সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতার স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং মানবাধিকার, জবাবদিহি ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রতি কানাডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
হেগ-এ তিন রোহিঙ্গার এই যাত্রা কেবল একটি মামলার সাক্ষ্যদান নয়, বরং এটি হারিয়ে যাওয়া পরিচয় এবং ন্যায়বিচার ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের অংশ। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই তিন সাক্ষীর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে আইসিজে কী পদক্ষেপ নেয় তার দিকে।