প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের দাপ্তরিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে এই পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, গত রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, দলের চেইন অব কমান্ড আরও শক্তিশালী করতে এবং আগামী দিনের আন্দোলনে গতি আনতে তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। এর আগে দলের গঠনতন্ত্রের বিশেষ ক্ষমতাবলে এই পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজপথের আন্দোলনে সফল হওয়া। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দলের নতুন ইমেজ তৈরি করাও হবে তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই অভিষেক কেবল একটি পদের পরিবর্তন নয়, বরং এটি বিএনপির আগামীর রাজনীতির একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। ‘ভারপ্রাপ্ত’ তকমা ঘুচে যাওয়ায় এখন তিনি আরও জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক মহলে দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।