প্রকাশিত:
৮ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের অন্যতম খেলা শুটিং। ১৯৯০ সালে কমনওয়েলথ শুটিংয়ে আলো জ্বালিয়েছিল। দেশের অন্যান্যদের পথ দেখিয়েছিলেন সে সময়ের শুটাররা। সেই খেলাটি এখন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে গেছে। যৌন হয়রানির অভিযোগে শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন দেশের সাবেক নারী ক্রীড়াবিদরা।
জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে নারী শুটারদের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্রীড়াঙ্গন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) গুলশানস্থ ফেডারেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাংবাদিকদের একের পর এক যৌক্তিক প্রশ্নের মুখে সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তারা হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে গণমাধ্যমকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ’ প্রচারের জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন। সম্মেলনের শুরুতেই সাংবাদিকরা এই শব্দের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
শুটিং ফেডারেশনের দাবি সাংবাদিকরা মিথ্যা প্রচার করছে। কিন্তু তার এককথার কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি আলেয়া ফেরদৌস। যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন আলেয়া ফেরদৌস এবং তিন কর্মকর্তা সালাম খান, সারোয়ার, আব্দুর রহমান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে আলেয়া ফেরদৌস লিখেছেন-যেন আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে যোগ্য প্রতিনিধি পাঠানো হয়। এসব নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শুরুতেই তোপের মুখে পরেন সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস।
সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তের স্বার্থে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে সরিয়ে দিয়েছে। সেই সাজ্জাদ ফেডারেশনের চেয়ারেই বসে আছেন। তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন কিছু কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতে এসেছেন সাজ্জাদ।' সাজ্জাদের ব্যাপারে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আলেয়া ফেরদৌস।
এই উত্তর শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাংবাদিকরা। তাদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেডারেশনে আশ্রয় দেওয়া মানেই হলো তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চান। তারা স্বীকার করেন যে, সংবাদ সম্মেলনের চিঠিতে ব্যবহৃত শব্দগুলো ভুল ছিল এবং তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববেন।
দেশের অন্যতম সফল এই ফেডারেশনটি এখন ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং নারী নির্যাতনের কলঙ্কে জর্জরিত। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবিলম্বে ফেডারেশন ভেঙে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন না করলে বাংলাদেশের শুটিংয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।