প্রকাশিত:
১১ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে জানিয়েছে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে তারা এখনও আশ্বস্ত নয়। এই অবস্থান ঘিরে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। বিষয়টি নিয়ে তিনি রোববার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন।
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ভাদোদারায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জয় শাহ। সেখানেই বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এই সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বিসিবির প্রথম চিঠিতে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ থাকলেও দ্বিতীয় চিঠি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশ এবার শুধু লজিস্টিকস নয়, মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর যে আবেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সেটাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিসিবি। ক্রিকেটার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইছে। বিসিবির বার্তা পরিষ্কার, এটি এখন শুধু সফরের প্রশ্ন নয়, এটি সম্মান ও আস্থার প্রশ্ন।
আইসিসি এখনো বিসিবির চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। আগে তারা অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে চায়। সেই পর্যালোচনায় বিসিসিআই ও আইসিসির ব্যবস্থাপনা দল পুরো টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ও পরিচালন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হবে, বাংলাদেশ কেন নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে এবং আগের আশ্বাসগুলো কেন তাদের কাছে যথেষ্ট হয়নি।
এই সংকটে জয় শাহকে এক ধরনের নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ভূমিকা নিতে হচ্ছে। তিনি আর ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতে পারবেন না; বরং বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে তাকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের কাছে পরিকল্পনাগুলো এমনভাবে তুলে ধরাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ, যাতে তারা চাপের মধ্যে পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না হয় এবং একই সঙ্গে বিশ্বকাপের বিশ্বাসযোগ্যতাও অক্ষুণ্ন থাকে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ আইসিসির নেই। তেমন কিছু করলে সংস্থাটিকে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতায় পড়তে হবে, এমনকি বোর্ড পর্যায়ে ভোটাভুটির প্রয়োজনও হতে পারে। যার প্রভাব পড়তে পারে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ওপরও, ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হবে এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।