প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। দুই মৌসুমে তিনি দুটি দলের হয়ে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে চলমান বিগ ব্যাশে অভিষেক হয়েছে তারকা লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনেরও। প্রথম আসরেই তিনি আলো ছড়াচ্ছেন।
হোবার্ট হারিকেনসের জার্সিতে বল হাতে মেলবোর্নের মাঠে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন তিনি। তাঁর এই বিধ্বংসী বোলিং স্পেলের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন বিগ ব্যাশে দীর্ঘ এক দশক ধরে টিকে থাকা সাকিব আল হাসানের করা বাংলাদেশি সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডটি।
শুক্রবার নিজেদের মাঠ বেলেরাইভ ওভালে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের মুখোমুখি হয়েছিল রিশাদের হোবার্ট হারিকেন্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে হোবার্ট ১৭৮ রান সংগ্রহ করে। এদিন ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি রিশাদের। পরবর্তীতে এই বাংলাদেশি তারকা ৪ ওভারে ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন। যার সুবাদে অ্যাডিলেডকে ৩৭ রানে হারিয়ে চলমান আসরেও দাপুটে অবস্থান ধরে রেখেছে হোবার্ট।
২০১৪-১৫ মৌসুমে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে সাকিব আল হাসান ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন, যা ছিল এতদিন পর্যন্ত বিগ ব্যাশে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা সাফল্য। আজ মেলবোর্ন স্টারসের বিপক্ষে রিশাদ হোসেন মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন। এটি কেবল বাংলাদেশিদের মধ্যে সেরা বোলিং নয়, বরং এবারের বিপিএলের অন্যতম সেরা স্পেল হিসেবেও চিহ্নিত হচ্ছে।
এবারের বিগ ব্যাশে উইকেটসংগ্রাহকদের তালিকায় রিশাদের অবস্থান ষষ্ঠ। তার সামনে থাকা ইংল্যান্ডের পেসার জেমি ওভারটনও সমান ১১ উইকেট নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪টি করে উইকেট পেয়েছেন জ্যাক এডওয়ার্ডস ও গুরিন্দর সান্ধু। এ ছাড়া পিটার সিডল ও হারিস রউফ ১৩টি করে এবং নাথান এলিস ১২ উইকেট শিকার করেছেন। এলিস-রিশাদ দুজনেই হোবার্টের হয়ে খেলছেন, তাদের দলও ১২ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে বিগ ব্যাশের শীর্ষে রয়েছে।
রেকর্ড গড়া এই পারফরম্যান্সের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে রিশাদ বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লেগ-স্পিনাররা সবসময় বাড়তি সুবিধা পায়। আমি কেবল সঠিক জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করেছি। সাকিবের মতো কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙতে পেরে আমি গর্বিত, তবে দলের জয়ই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
রিশাদ হোসেনের এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল বার্তা। বিশেষ করে বিদেশে টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে বাংলাদেশি লেগ-স্পিনারদের কদর যে বাড়ছে, রিশাদ তারই প্রমাণ দিলেন। এই পারফরম্যান্সের ফলে বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতেও তাঁর চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা।